নিজস্ব প্রতিবেদক:
লাইসেন্সধারী চালকদের জন্য প্রতিশ্রুত ৫ হাজার সি.এন.জি অটোরিকশা অবিলম্বে বন্টন, পার্কিং এর স্থান না দিয়ে নো-পার্কিং মামলা-পুলিশী হয়রানি বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চালকদের ৫ হাজার অটোরিক্সা (সি.এন.জি) বরাদ্দ বাস্তবায়ন করতে হবে, সরকার নির্ধারিত ৯০০ শত টাকা জমা বাস্তবায়ন করতে হবে, টার্মিনাল ব্যাতিত সিটি টোল সি.এন.জি/অটোরিক্সা থেকে নেয়া যাবে না, স্থায়ী পার্কিং ষ্ট্যান্ড নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত নো পার্কিং মামলা দেওয়া যাবে না, সহজ শর্তে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে, ৫ হাজার গাড়ী চালকদের মাঝে অবিলম্বে বরাদ্দ দিতে হবে, গ্যারেজ ভাড়ার নামে চালকদের নিকট হতে জোর পূর্বক টাকা আদায় বন্ধসহ ৭ দফা দাবিতে ঢাকা জেলা ফোর ষ্ট্রোক অটোরিক্সা (সি.এন.জি) ড্রাইভার্স ইউনিয়নের উদ্যোগে ২১ মে ২০২২ইং রোজ শনিবার সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা চট্টগ্রাম সিএনজি অটোরিক্সা হালকাযান শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান হাবীব বুলবুল। বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ। সঞ্চালনা করেন ইউনিয়নের সদস্য মো. মামুন-উর-রশীদ (পিন্টু)। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি মিজান খান, মো. হারুন, ফারুক হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মো. ইউসুফ, দপ্তর সম্পাদক সুমন, সহ দপ্তর সম্পাদক মো. নুরে আলম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. শামীম, কার্যকরী সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। এছাড়াও থানা কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সভাপতি নুর আলম, গোলাম মোস্তফা, মো. সগীর (ছোট), জাকির হোসেন, ইউনুস, খোকন, শামছু, সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক জুলহাস, মাসুম, জাহাঙ্গীর, এমদাদ, ফারুক, বিল্লাল, সোহাগ, ইমাম প্রমুখ।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চালকদের ৫ হাজার সি.এন.জি অটোরিক্সা বরাদ্দ বাস্তবায়ন করতে হবে, সরকার নির্ধারিত ৯০০ শত টাকা জমা বাস্তবায়ন করতে হবে, টার্মিনাল ব্যাতিত সিটি টোল সি.এন.জি/অটোরিক্সা থেকে নেয়া যাবে না, স্থায়ী পার্কিং ষ্ট্যান্ড নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত নো পার্কিং মামলা দেওয়া যাবে না, সহজ শর্তে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে, ৫ হাজার গাড়ী না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মহানগর হতে কোন গাড়ী বন্ধ/উঠানো যাবে না, গ্যারেজ ভাড়ার নামে চালকদের নিকট হতে জোর পূর্বক টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, পাঁচবার গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও সি.এন.জি অটোরিকশার ভাড়া সমন্বয় করা হয়নি। ফলে অটোরিকশার ড্রাইভাররা সকাল থেকে গভির রাত পর্যন্ত গাড়ী চালিয়েও সংসার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় আয় করতে পারছেনা। উপরন্তু ঘরের আসবাবপত্র বিক্রি করে পুলিশের হয়রানীমূলক মামলার জরিমানা পরিশোধ করছে। অটোরিকশা শ্রমিকদের ৭ দফা বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ গৃহিত হয়নি।
নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে সি.এন.জি চালকদের ৭ দফা বাস্তবায়নের আহবান জানিয়ে বলেন অন্যথায় ধর্মঘট পালনের মত কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা ছাড়া শ্রমিকদের সামনে আর কোন পথ খোলা থাকবে না। নেতৃবৃন্দ বলেন, ৫ হাজার সি.এন.জি অটোরিকশা শ্রমিকদের মাঝে বন্টনের দাবিতে চলমান আন্দোলন কে বিভ্রান্ত করতে বাড়তি ভাড়া আদায়কারি মালিকরা ২৫-২৬ মে ধর্মঘট আহবানের ঘোষণা দিয়েছে। আমরা দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই মালিকদের আহুত এই ধর্মঘটের সাথে ঢাকার সি.এ.জি ড্রাইভারদের কোন সম্পর্ক নেই। প্রকৃত পক্ষে মালিকরা শ্রমিক দরদি সেজে শ্রমিকদের সহযোগিতা নিয়ে মালিকের দৈনিক জমার পরিমাণ বাড়াতে চাই।
নেতৃবৃন্দ বেআইনীভাবে ধর্মঘট আহবানের হুমকি প্রদানকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার আহবান জানান। নেতৃবৃন্দ শ্রমিক সংগঠনের নামে দালাল নেতৃত্বকে চিহ্নিত করতে এবং তাদের সম্পর্কে সাবধান হওয়ার এবং আগামী দিনের কর্মসূচী বাস্তবায়নে ইস্পাতসম দৃঢ় ভূমিকা পালনের জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানান।
Leave a Reply